জেলা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

৩০তম দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা লোকমেলা

শেয়ার করুন

গালিব ইসলাম : শেষ হলো ঐতিহ্যের বর্নাঢ্য লোকমেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি মুক্ত সংঘের আয়োজনে চম্পাহাটি রেল প্রাঙ্গণে ২১শে মার্চ থেকে ২৯শে মার্চ ৯ দিন ব‍্যাপী ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা লোকমেলা শেষ হলো। এ বছর ছিল এই মেলার ৩০তম উদযাপন। ৩০টা বছর ধরে বাংলার লোক সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যের ধারাকে বহন করে চলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্থানীয় সংঘ প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং লোকসংস্কৃতিপ্রেমী সমস্ত মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় চম্পাহাটি মুক্ত সংঘ প্রতিবছর সাফল্যের সঙ্গে এই লোকমেলা আয়োজন করে আসছে। এ বছর মেলায় রকমারি স্টলের বিচিত্র সম্ভার। লোকসংস্কৃতির বিচিত্র পসরায় পরিপূর্ণ স্টলগুলোতে ছিল মানুষের উপছে পড়া ভিড়। পোড়ামাটির নানান হস্তশিল্প, টেরাকোটা ছাড়াও সূচি শিল্প, দারু শিল্প, যেন শান্তিনিকেতনের এক টুকরো সোনাঝুরি। এছাড়াও গৃহসজ্জার নানান উপকরণ থেকে শুরু করে শিশু মনের উপযোগী উপকরণ তো রীতিমত নজর কেড়েছে। এক কথায় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্প, কুটির শিল্প এই মেলার ঐতিহ্যকে বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ।

এ বছর মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশপথ শিল্পীর তুলির অপরূপ দৃশ্যায়ন দর্শকদের প্রশংসা কুড়োয়। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যে সকল বিশিষ্ট কবি, লেখক, সাহিত‍্যিক, সংগীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ও সমাজসেবী মেলা প্রাঙ্গণের ওয়ালের গ‍্যালারিতে এক এক করে তাঁদের সুবিশাল প্রতিকৃতিতে মাল‍্যদানের মধ্য দিয়ে মেলা কমিটি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মেলা প্রাঙ্গণটি উৎসর্গীকৃত হয়েছে প্রয়াত বিশিষ্ট লোকশিল্পী শক্তি দোলুই (রায়বেশেঁ নৃত্যশিল্পী) স্মরণে। অকালে প্রয়াত অসমীয়া সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণের মূলমঞ্চ।

Advertisement

প্রাঙ্গণের মধ্যস্থলে যাওয়ার ঠিক আগে মাতৃভাষার বাংলার একুশের শ্রদ্ধার্ঘ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অপরূপ হস্তশিল্পের দ্বারা। জুবিন গর্গ স্মৃতি মঞ্চের ঠিক সামনে প্রজ্বলিত প্রদীপ শিখা যেন সমস্ত বিভাজন আর সংকীর্ণতাকে দগ্ধ করার প্রতীক রুপে দেদীপ্যমান। এ বছর মেলার ভাবনা ‘ এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না ‘ লোকমেলার মূল বার্তা ছিল ‘ চিরজীবী আত্মীয়তা, লোকগাথা, লোক কথা ‘ বর্তমান অস্থির সময়ের প্রেক্ষাপটে এই ভাবনা এবং বার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মেলার দ্বারদঘাটন করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্থানীয় লোক সংগীতশিল্পী ও তরজা শিল্পী মাননীয় শ্রীযুক্ত প্রকাশ বারিক মহাশয়। এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লোকশিল্পী, পদ্মশ্রী সম্মানিত, লোকরত্ন, বীরভূমের ভূমিপুত্র ঝুমুর ও ভাদু শিল্পী মাননীয় শ্রীযুক্ত রতন কাহার মহাশয়। সাঁঝ বেলার আসরে প্রতিদিন ছিল ভিন্ন আঙ্গিকের লোকসংস্কৃতি মূলক নানান উপস্থাপনা, যেমন- রায়বেঁশে, রণপা নৃত্য, সম্বলপুরী আদিবাসী নৃত্য, বনবিবির পালা, নাটুয়া, ছৌ নৃত্য ইত্যাদি। সেইসঙ্গে প্রতিদিন পরিবেশিত হয়েছে নদীয়া, বীরভূম সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিশিষ্ট বাউল শিল্পীদের অসাধারণ সাংগীতিক উপস্থাপনা।

এই উৎসবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হল মেলার কার্যকরী কমিটির সদস‍্য কেশব দে(সম্পাদক), দেবদাস সিপাহী(সভাপতি), রবিশংকর মণ্ডল, অরূপ দাস, স্বপন মণ্ডল, দাশুরথী মণ্ডল, বসির গাজী, সমর দাস, সঞ্জয় মণ্ডল,স্বরাজ নস্কর, দিব্যেন্দু দাশগুপ্ত, রণজিৎ নস্কর, নিত্য হালদার ও প্রল্হাদ মণ্ডল প্রমুখদের সাথে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ